কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬ এ ১০:০৭ AM
কন্টেন্ট: পাতা
বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলায় বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য হতে আগত জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে ১৯৯২ সালে “শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়” (Refugee Relief and Repatriation Commissioner’s Office - RRRC) প্রতিষ্ঠিত হয়। উক্ত কার্যালয় কক্সবাজার শহরের মোটেল রোডে অবস্থিত। বর্তমানে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের অধীনে মোট ৩৪টি ক্যাম্প ইন-চার্জ (CiC) অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ৩৩টি কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় এবং ১টি নোয়াখালী জেলার ভাসানচরে অবস্থিত। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় (MoDMR)-এর অধীনস্থ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, যা জাতিসংঘ (UN) এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে থাকে। এ কার্যালয় বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, জাতিসংঘের সংস্থা, আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা (INGOs), জাতীয় বেসরকারি সংস্থা (NGOs) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে মানবিক কার্যক্রমের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন এবং তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করে। এছাড়া, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের স্বদেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও কার্যক্রম পরিচালনা করে। পাশাপাশি তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন (Third Country Resettlement)-এর সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই ও স্থায়ী সমাধান অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে। ১৯৯১-৯২ সালে মিয়ানমারে সংঘটিত রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক নির্যাতনের ফলে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় গ্রহণ করে। মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকার তাদেরকে দেশে প্রবেশের সুযোগ প্রদান করে এবং আশ্রয়, খাদ্য, চিকিৎসা সেবা ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করে। ১৯৯২ সালে পরিচালিত গণনায় মোট ২,৫০,৮৭৭ জন শরণার্থীকে নিবন্ধন করা হয় এবং তাদেরকে কুতুপালং ও নয়াপাড়া—এই দুটি ক্যাম্পে অবস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (UNHCR)-এর সাথে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে UNHCR ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়। উক্ত মানবিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ১৯৯২ সালে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় নামে একটি পৃথক প্রশাসনিক কাঠামো গঠন করা হয় এবং এতে বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা ও দক্ষ জনবল নিয়োজিত করা হয়। ১৯৯২ সাল থেকে ২৮ জুলাই ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়ে মোট ২,৩৬,৫৯৯ জন রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করা হয়। এছাড়া ২০০৬ সাল থেকে ডিসেম্বর ২০০৯ পর্যন্ত সময়ে ৯২৬ জন শরণার্থীকে তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন করা হয়; বর্তমানে মোট ৭,১৩২ জনকে তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২০১৫ সালের ০১ এপ্রিল পর্যন্ত কুতুপালং ও নয়াপাড়া নিবন্ধিত ক্যাম্পে ৮,৫৬৭ জন লিংক সদস্যসহ মোট ৩৯,৩০২ জন শরণার্থী অবস্থান করছিল। পরবর্তীতে ২৫ আগস্ট ২০১৭ খ্রিস্টাব্দের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘটিত সহিংসতার প্রেক্ষিতে প্রায় ৭,৫০,০০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এর পূর্বে নিবন্ধিত ক্যাম্পসমূহে শরণার্থীর সংখ্যা ছিল ৩৯,১৫৬ জন (প্রায় ৪%)। বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থানরত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মোট সংখ্যা প্রায় ১১,৮৪,৮৬৪ জন। এর মধ্যে শিশু ৫৪%, প্রাপ্তবয়স্ক ৪৪%, বয়স্ক ৪% এবং প্রতিবন্ধী ৪%। লিঙ্গভিত্তিক হিসেবে নারী ৫২% এবং পুরুষ ৪৮%। বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই ও স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। |
![]() |